সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সংকট নিরসন এবং ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে অবিলম্বে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ সংহতি ও দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সর্বস্তরে বৈষম্য ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটানো। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে তা এখনো কার্যকর হয়নি। স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের অভাবে সাত কলেজের লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই প্রশাসনিক স্থবিরতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে শুধু বাধাগ্রস্তই করছে না, বরং তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবি নিয়ে কালক্ষেপণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, সাত কলেজের সংকট নিরসনে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার বোঝা শিক্ষার্থীরা আর বহন করতে প্রস্তুত নয়। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সংকট সমাধানে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, যার দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামতে বাধ্য হওয়া জাতির জন্য কখনোই সুখকর নয়। আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংযমী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।



