একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদলের আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রাঁকো রুইভি। বিতর্কের মধ্যেই চলতি বছরের শেষ দিকে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
২০১৮ সাল থেকে আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটির (SETE) প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন প্যাট্রিক।
কী ঘটেছিল আইফেল টাওয়ারে?
চলতি মাসের শুরুতে বিএপিএস (BAPS) নামের একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদল প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রতিনিধিদলটি নারীদের সঙ্গে মেলামেশা সীমিত রাখার অনুরোধ করেছিল বলে জানা যায়।
ওই অনুরোধ মেনে নিয়ে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় পরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটি স্বীকার করেছে, প্রতিনিধিদলের এই শর্ত মেনে নেওয়া তাদের ভুল ছিল। প্রতিষ্ঠানটির তদন্তে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে নারী কর্মীদের তাদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ধর্মঘট, বন্ধ আইফেল টাওয়ার
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রতিবাদে কর্মীরা ধর্মঘট ডাকলে আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
এ নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ আধুনিক সমাজে ধর্মীয় প্রথার কারণে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াকে বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পর বিএপিএস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে।
বছরের শেষেই পদ ছাড়ছেন প্যাট্রিক
ঘটনাটিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই প্যাট্রিক ব্রাঁকো রুইভি চলতি বছরের শেষ দিকে আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইফেল টাওয়ারের মতো বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সঙ্গে আচরণ ও ধর্মীয় অনুরোধের বিষয়টি কীভাবে সামলানো হয়েছে, মূলত তা নিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
সূত্র: বিবিসি



