tanaka

এজলাসের ঘটনা নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন

তথ্য গোপনের অভিযোগে এক নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয় নিয়ে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি...
প্রচ্ছদসারাদেশসন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ চাঁদা, গ্রেফতার ৭

সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ চাঁদা, গ্রেফতার ৭

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী মো. রায়হানের নাম ব্যবহার করে এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তি বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করতেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাটহাজারী মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

‘১০০ পুলিশ থাকলেও রক্ষা নেই’—হুমকি

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও তাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না—এমন ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসক থানায় মামলা করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং কারাগারে থাকা ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার

অভিযানে গ্রেফতার সাতজনের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং বিদেশি নম্বর ব্যবহার করা চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. মানিক, মো. নুরুল আলম, ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার, চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল এবং নগরীর বায়েজিদ থানার জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত।

কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।

মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে কামরুল হাসান সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি করে মামলা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদেরও টার্গেট করত চক্রটি

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া জানান, হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে বড় সাজ্জাদ, রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।

এ ধরনের আরেক ঘটনায় বড়দিঘীরপাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে আগে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা হতো। পরে প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা ছিল তাদের কৌশল।

পুলিশের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ, রায়হান, ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের নাম ব্যবহার করলেও গ্রেফতার ব্যক্তিরা নিজেদের একটি আলাদা চাঁদাবাজ চক্র হিসেবে পরিচা