সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিঙ্গাপুরে তার নামে থাকা একটি স্থাবর সম্পত্তি এবং বিভিন্ন দেশে থাকা ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সম্পদ জব্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে তার নামে একটি স্থাবর সম্পত্তি, আটটি ব্যাংক হিসাব এবং একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও গোপন সূত্রে তথ্য পেয়েছে দুদক।
আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের ১০ সেন্ট থমাস ওয়াকের ৮ সেন্ট থমাস, ০৮-০৬ ঠিকানায় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে একটি সম্পত্তি রয়েছে। ২০১৯ সালের ৭ জুন সম্পত্তিটি ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে হিসাব থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে তিনটি হিসাব রয়েছে। এগুলোর দুটি সঞ্চয়ী ও একটি বিনিয়োগ হিসাব। দুটি হিসাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও রুকমিলা জামানের যৌথ নামে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ব্যাংকে একটি করে ব্যাংক হিসাবের তথ্য পেয়েছে দুদক।
সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকে থাকা তিনটি বিনিয়োগ হিসাবের তথ্যও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাব আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেডটিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড ও নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
দুদক আরও জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী পরিচালক ছিলেন। নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হন এবং ২০১৯ সালের ৩ মে পদ ছাড়েন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছে। এসব সম্পদ সরিয়ে ফেলা হলে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে সম্পদগুলো দ্রুত জব্দ ও অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতের আদেশ কার্যকর করতে বিদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ জন্য পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছে দুদক।
অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। দুদকের একজন উপপরিচালককে এ টাস্কফোর্সের দলনেতা করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিদেশে থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্টদের সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।



