শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে আরও দক্ষ করে তুলতে প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার। তবে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ নামে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। ফলে কবে থেকে ট্যাব বিতরণ শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।
জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে গুরুত্ব
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ করা গেলে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান আরও কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যেই ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ ধারণাটি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
প্রস্তাবিত উদ্যোগটি মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষার আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও কর্মসূচির সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ‘শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মসূচি’, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ’ এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ‘নেক্সটজেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচি’।
প্রাথমিক শিক্ষকরাও পেতে পারেন ট্যাব
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তার ভাষ্য, প্রস্তাবিত পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রাথমিক পর্যায়েও ট্যাব কেনা ও বিতরণের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
লাখো শিক্ষক পাচ্ছেন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ
শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে সক্ষম করে তুলতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
‘লাইস’ প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষককে ব্লেন্ডেড লার্নিং এবং আরও ২৯ হাজার ৫৮৫ জনকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নেক্সটজেন কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসককে দেশে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৩১ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগে প্রস্তুতি, এরপর পাইলট প্রকল্প
শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এহছানুল হক মিলন।
এর মধ্যে শিক্ষকের প্রকৃত সংখ্যা ও প্রয়োজন নির্ধারণ, ট্যাবের কারিগরি বৈশিষ্ট্য ঠিক করা, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
একই সঙ্গে ডিভাইসের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে কর্মসূচিটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সফল হলে ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানো হবে।
এসব প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয় বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।



