tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদজাতীয়সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

শোকাহত মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। রোববার (১৩ জুলাই) দুদফা জানাজা শেষে সংসদ ভবনের নির্ধারিত স্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনজীবী জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাদ আসর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচের টানেলে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পঞ্চগড়-তেতুলিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ, মরহুমের স্বজন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার শুরুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির স্মৃতিচারণ করেন।

বক্তারা বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন সততা, প্রজ্ঞা, শিষ্টাচার ও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, সৎ এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় এবং আইন অঙ্গনে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব এএসএম বাহাউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপ মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মরদেহ নিজ জেলা পঞ্চগড়ে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণেই তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদে শোক ও স্মৃতিচারণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ ছিলেন। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী এবং আপাদমস্তক ভদ্রলোক।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে সমানভাবে সফল ছিলেন। তিনি মানবিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। কঠিন সময়ে তিনি অসংখ্য নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন স্বনির্মিত ব্যক্তিত্ব। নিজের যোগ্যতা ও মেধায় তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী রাজনীতির প্রতি তিনি আজীবন অবিচল ছিলেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দোকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আইন অঙ্গনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। মক্কেলদের প্রতি তার আন্তরিকতা ও পেশাগত নিষ্ঠা ছিল অনুসরণীয়।

সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতি আজ একজন মহান রাজনীতিক, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো অভিযোগ ওঠেনি।

এ সময় বিএনপির এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, এনসিপির আখতার হোসেন এবং জামায়াতের নাজিবুর রহমানও শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন।

আলোচনা শেষে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।