জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) ছিলেন চৌধুরী মামুন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা পাঁচ অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানায়, তিন আসামির বিরুদ্ধেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
সোমবার রায় ঘোষণার আগে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আইসিটি-১ এ আনা হয়। তিনিই এ মামলার একমাত্র আটক আসামি, পরে যিনি রাজসাক্ষী হন। অন্য দুজন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—ভারতে অবস্থান করছেন।
তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগ
মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ
৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা
৪. ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘বিবিধ মামলা’ দায়ের হয়। ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথমবার আসামির কেউ ‘অ্যাপ্রুভার’ হন—সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ মার্চ মামলায় মামুনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে ১২ মে এবং ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। এতে শেখ হাসিনাকে জুলাই–আগস্টের নৃশংসতার ‘মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাঁচ অভিযোগে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয় এবং ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন—যার দুটি আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে গুম-খুনের অভিযোগে এবং অপরটি হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর ঘটনার হত্যা মামলায় দায়ের।



