tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিশেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন: প্রশ্ন রিজভীর

শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন: প্রশ্ন রিজভীর

টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে কেউ কেউ বিভিন্নভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা আড়ালে চলে গিয়েছিল, তারা এখন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মোড়ে ‘যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে” কিংবা “একটি বড় রাজনৈতিক দলকে কেন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না”—এ ধরনের বক্তব্য এখন সামনে আনা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “শেখ হাসিনা যদি এতই বাহাদুর হন, তাহলে পালালেন কেন? বেগম খালেদা জিয়া তো পালাননি।”

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নানা চাপ, হুমকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশ ছাড়েননি। অন্যদিকে, ওই সময় শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলেও খালেদা জিয়াকে কারাভোগ করতে হয়েছে, তবে তিনি কোনো অন্যায় চাপের কাছে মাথানত করেননি।

শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, তিনি যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে তার রাজনীতির চরিত্রও বিবেচনায় আনতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন, তার শাসনামলে মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে এবং তিনি ইতিহাসের বিতর্কিত শাসকদের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির প্রত্যাবর্তন জনগণ মেনে নেবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগ এলাকার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই প্রতিরোধ দেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তার দাবি, সেদিন বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াত, শিবির, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। বক্তব্যে তিনি সেই সময় নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর দলটির পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, জামায়াত অতীতেও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং এখনও আওয়ামী লীগের ভাষার সঙ্গে মিল রেখে বক্তব্য দিলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।

বক্তব্যের শেষদিকে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।