tanaka
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদরদপ্তর থেকে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার, ব্যাংক পুনর্গঠন এবং সংকটাপন্ন ব্যাংক ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করা হবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠনের কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অনিয়ম ও বেআইনি ঋণ বিতরণের কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ব্যাংকিং খাতে গড় খেলাপি ঋণের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতার গভীরতাই তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলে একটি স্থিতিশীল, শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত গড়ে তোলা জরুরি। অথচ দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উপকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোও আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। সামগ্রিকভাবে এসব উদ্যোগ দেশের আর্থিক খাতের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।