tanaka

চাকরি, রিজিক কিংবা জীবনের দুশ্চিন্তায় অস্থির? শেষ রাতে রবের কাছে ফিরে যান

তাহাজ্জুদের সেজদায় নিজের কষ্ট, চাওয়া ও প্রয়োজন তুলে ধরার আহ্বান জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মানুষকে অনিশ্চয়তা, ব্যর্থতা কিংবা না-পাওয়ার কষ্ট ঘিরে ধরে। চাকরি খুঁজতে গিয়ে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকশেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের: ভারত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের: ভারত

ঢাকার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ার কথা জানাল নয়াদিল্লি, চলছে কূটনৈতিক আলোচনা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতীয় আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, প্রত্যর্পণের মতো বিষয় রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়; এর জন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি অব্যাহত থাকলেও বিষয়টি ভারতীয় বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার পথ খুঁজতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, কাউকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, তা কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনায় নির্ধারণ করা যায় না। আদালতের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রত্যর্পণ ইস্যুটির সঙ্গে দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিও জড়িত। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা?

প্রতিবেদনে আরেক ভারতীয় কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের মাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয় এবং আওয়ামী লীগের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ঢাকা মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায়কেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভারতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন।

কী বলছে প্রত্যর্পণ চুক্তি?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সুযোগও রয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিতে পারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের অনুরোধের পরও প্রত্যর্পণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না; এর আগে ভারতের আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে হবে।

এদিকে ভারত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধানে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস