ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত এক ডজন মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে ছয়টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
এছাড়া শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদক আরও কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এসব মামলার আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। এছাড়া শেখ রেহানার দেবর ও শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিন ভারতে পালিয়ে যান তিনি। তার পরিবারের অন্যরাও দেশের বাইরে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সাত সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করে দুদক।
গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক। এরপর এপ্রিলে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পূর্বাচলে প্লট নেওয়ার বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় গত ১২ আগস্ট তার ফেসবুকে উল্লেখ করেন, ‘পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে জমি বরাদ্দের বিষয়ে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে তথাকথিত দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং অবৈধ ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক কূটচাল মাত্র। পূর্বাচল প্লট বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম করা হয়নি, এমনকি আমাদের কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধাও দেওয়া হয়নি।’
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। প্রায় ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ১৪ আগস্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মামলা দুদক।



