tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলশিশুর স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হুর নতুন নির্দেশনা, ৯ বছর পর্যন্ত ওষুধ-অস্ত্রোপচারে নিরুৎসাহিত

শিশুর স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হুর নতুন নির্দেশনা, ৯ বছর পর্যন্ত ওষুধ-অস্ত্রোপচারে নিরুৎসাহিত

শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ওজন কমানোর ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এসব চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে।

হুর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্থূলতায় আক্রান্ত যেসব কিশোর-কিশোরীর টাইপ-১ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ বা উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্যগত জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের বিবেচনায় ওজন কমানোর ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টানা ছয় মাস নির্ধারিত খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চা অনুসরণ করেও যাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, তাদের জন্যও এসব চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।

সংস্থাটির প্রকাশিত নির্দেশিকায় স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, ওষুধ, অস্ত্রোপচার এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান গবেষণা ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতা মোকাবিলায় পরিকল্পিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নয় বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক বাইপাসের মতো অস্ত্রোপচার এবং জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বর্তমানে স্থূলতা কমাতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। তবে হুর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া ডি রেগিল জানিয়েছেন, এসব ওষুধের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে সেগুলো পর্যালোচনা করে নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এ কারণে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের জন্য ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সুপারিশ সর্বজনীন নয়; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থূলতায় ভুগছে এবং অন্যান্য পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি—এমন কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এসব চিকিৎসার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার বিস্তার বাড়তে থাকায় নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে হু। সংস্থাটির ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছে। এদের মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। বাকি প্রায় ১০ কোটি ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী।

লুজ মারিয়া ডি রেগিল ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়েই স্থূলতার হার বাড়ছে। তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ সমস্যা বেশি প্রকট। বিপরীতে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতার হার ক্রমে কমছে।