tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিশাহজালাল বিমানবন্দর: সংকটে আকাশপথে পণ্য পরিবহন

শাহজালাল বিমানবন্দর: সংকটে আকাশপথে পণ্য পরিবহন

কার্গো ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থা, বাধাগ্রস্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানিযোগ্য পণ্য ব্যবস্থাপনায় নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। গুদাম সংকট, দক্ষ জনবলের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের আকাশপথে বাণিজ্য। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক খাতসহ চিকিৎসা, খাদ্যপণ্য, জরুরি নথি ও নমুনা পণ্যের আমদানি-রপ্তানি এখন সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। এসব পণ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ও বৈদেশিক আয় উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


গুদাম সংকটে খোলা আকাশের নিচে পণ্য

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন যত পণ্য আসে, তার অর্ধেক রাখার মতো জায়গাও নেই। ফলে অনেক পণ্য গুদামের বাইরে বে-এরিয়ায় রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে পণ্যের সঠিক সিরিয়াল ও তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং তা খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ে পণ্যের ডেলিভারিতে।


বেবিচকের দায় এড়াতে চেষ্টার অভিযোগ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাফিকুর রহমান দাবি করেছেন, “কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের কোনো গাফিলতি নেই, ফ্লাইট নামার পরপরই পণ্য যথাস্থানে রাখা হয়। এরপরের কাজ মূলত কাস্টমসের।” অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, সমস্যা দীর্ঘদিনের; তবে তৃতীয় টার্মিনালের মাধ্যমে এ সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


রপ্তানিকারকদের শঙ্কা

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সময়সীমা মেনে ডেলিভারি না দিতে পারলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করে দেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের রপ্তানি খাত। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, দায়িত্বশীলদের অদক্ষতা এবং সমন্বয়হীনতা কার্গো হ্যান্ডলিংকে ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। অবস্থা দ্রুত না বদলালে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”


নতুন শুল্ক নিয়মে জটিলতা

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ আমদানি পণ্যের ছাড়করণে নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে সাতটি সরকারি সংস্থার অনুমোদন অনলাইনে (ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মে) জমা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য খালাসে সমস্যায় পড়ছে।


পুরোনো অবকাঠামোয় চাপ

১৯৮০ সালে স্থাপিত শাহজালাল বিমানবন্দরের অবকাঠামো এখনো বড় কোনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়নি। কার্গো গুদামটির আয়তন মাত্র ১৭ হাজার বর্গফুট। অথচ প্রতিদিন গড়ে ৪০০ টনের বেশি পণ্য এখানে ওঠানামা করছে। এর মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিস, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং শুল্ক দেওয়া আমদানি পণ্য অন্তর্ভুক্ত।


তৃতীয় টার্মিনালে আশার আলো

তবে আশার কথা হচ্ছে, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে আধুনিক গুদাম ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধা রাখা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের উদ্যোগ

বাণিজ্যিক চাপ কমাতে বেবিচক ইতোমধ্যে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো পরিবহন চালু করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


করণীয়

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, “সরকার চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে এয়ার কার্গো পরিবহনকে ব্যয়সাশ্রয়ী করতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

সাবেক বেবিচক চেয়ারম্যান মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, “ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় শাহজালালে চাপ বেড়েছে। তবে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের সব কার্গো এখান থেকেই পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”


উপসংহার

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান কার্গো ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে আধুনিকায়ন, সমন্বয় এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।