tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকলেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। শতাধিক বিমান হামলায় রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বহু হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে হামলা বন্ধে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হলে, এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে আজকের দিন পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। হামলা অব্যাহত থাকলে আগামী শুক্রবারের আলোচনা আমরা বাতিল বলে গণ্য করব এবং তাতে অংশ নেব না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু ইসরায়েল তা ভঙ্গ করছে। তাদের প্রতিহত করতে শক্ত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

লেবাননে চলমান হামলার প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো। ফার্স নিউজ জানায়, বুধবার সকালে দুটি ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করলেও পরে চলাচল স্থগিত করা হয়।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের হয়ে ইসরায়েলে হামলার মূল্য হিজবুল্লাহকে দিতে হবে। আমরা সেই প্রতিশোধের পথে এগোচ্ছি।’

লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, হামলা মোকাবেলায় তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন বলেন, ‘বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় হাসপাতালগুলো আহত ও নিহত মানুষের চাপে ভরে গেছে।’

আল জাজিরা আরবির ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলের বৈরুত আক্রমণের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে। এমন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা উপেক্ষা করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। পরে ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

দীর্ঘ ৩৯ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরান ১০ দফা শর্তে এতে সম্মত হয়, যার মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ ছিল।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবানন ফ্রন্ট যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি