ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত দুইজন আহত হন। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোমানিয়ার গালাতি শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। শহরটি ইউক্রেন এবং মলদোভা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। হামলার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন বলেন, “রাশিয়া আগ্রাসনের আরও একটি সীমা অতিক্রম করেছে।” অন্যদিকে ন্যাটো এ ঘটনাকে রাশিয়ার “বেপরোয়া কর্মকাণ্ড” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার রুশ ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করেছে। তবে এবারই প্রথম কোনো রোমানিয়ান নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।
রোমানিয়ার জরুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটির বিস্ফোরক পুরোপুরি বিস্ফোরিত হওয়ায় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের দশম তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যান জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। তিনি এটিকে রোমানিয়ার ভূখণ্ডে সংঘটিত “সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা” বলে অভিহিত করেছেন।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পরপরই দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। তবে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঘেওরঘে ম্যাক্সিম বলেন, ড্রোন শনাক্ত থেকে হামলা পর্যন্ত সময় ছিল মাত্র চার মিনিট, যা কার্যকর প্রতিক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত অল্প।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে রোমানিয়া। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।



