ঘনিয়ে এসেছে সময়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কেমন হবে, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ে শোবিজ অঙ্গনের তারকারা কী ভাবছেন, তা জানতে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামীপন্থি তারকারা মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ঢালাওভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন তারা।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বিনোদন অঙ্গনের কোনো শিল্পী বা তারকা প্রার্থী হওয়া কিংবা প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ না নিলেও এ অঙ্গনের অনেকেই দলটির প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে কয়েকজন তারকাশিল্পীর মনোনয়ন পাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও চূড়ান্ত তালিকায় কোনো তারকার নাম দেখা যায়নি। তবে বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ, কনকচাঁপা, মনির খান, বেবী নাজনীন, আসিফ আকবর, নাজমুন মুনিরা ন্যানসি এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও খল অভিনেতা শিবা সানু। তারা সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক সরকার প্রত্যাশা করছেন। শোবিজের আরও অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী প্রকাশ্যে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন বরেণ্য শিল্পী এই নির্বাচনকে অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। সদ্য একুশে পদকে ভূষিত দেশবরেণ্য চলচ্চিত্রাভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই নিজেকে চলচ্চিত্রের মানুষ মনে করি। চলচ্চিত্রই আমার ধ্যান-জ্ঞান। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে—তারা যেন বিনোদন মাধ্যম, বিশেষ করে চলচ্চিত্রের দিকে আলাদা নজর দেয়। আকাশ সংস্কৃতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের মূল্যবোধের কোনো ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।’
খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্মাতা আবুল হায়াত বলেন, ‘নাটককে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি আমি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। এতে এই অঙ্গনের পেশাদারদের কাজের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। নতুন সরকার যদি এ খাতে আরও মনোযোগ দেয়, তাহলে আমাদের শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশে আরও বেশি প্রশংসিত হবে।’
নন্দিত সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা—বিটিভির পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতেও নিয়মিত অডিশনের ব্যবস্থা করা হোক। কপিরাইট ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি, যাতে শিল্পীরা ন্যায্য মূল্যায়ন পান। শিল্পীদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিও জানাই।’
এ প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীরাও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। তরুণ অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘আমি শিল্পী—কোনো দলের নই। তবে নাগরিক হিসেবে চাই, যেই সরকারই আসুক, তারা যেন জনগণের কথা আগে ভাবেন এবং নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন।’
জুলাই আন্দোলনে রাজপথে নেমে আলোচনায় আসা লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে নেদারল্যান্ডসে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘সবার আগে চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিক। এরপর প্রত্যাশা—নারীবান্ধব, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ; যেখানে থাকবে সুশাসন, স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার, থাকবে না দুর্নীতি।’



