ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এই যুদ্ধ তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর বুধবার ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তে মার্কিন জনমতের বড় একটি অংশ সন্তুষ্ট নয়। একই সঙ্গে অনেক ভোটার ট্রাম্পকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানও করতে চাইছেন না। কিন্তু নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি থাকায় এই সংঘাত তার রাজনৈতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে।
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রিপাবলিকান দলের নেতাদের আশঙ্কা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে পড়তে পারে।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সমর্থনকারী সংগঠন রিপাবলিকান মেইন স্ট্রিট পার্টনারশিপের প্রেসিডেন্ট সারাহ চেম্বারলেইন বলেন, নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ এখন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে, যা ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশ্য হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প জনমত জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন না; তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে নন। ফক্স নিউজের এক জরিপে ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। একই জরিপে ৮৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে, যার চাপ বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। তারা কংগ্রেসে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলিউশন’ কার্যকর করে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে তিনি তেহরানের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন এবং প্রয়োজন হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট



