যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশ জানিয়েছে, তাদের হামলায় ডজনখানেকের বেশি সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৪০টির বেশি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তেহরানে রাতভর চালানো হামলায় ইরানের ১৬টি সামরিক বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বিমানবাহিনী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত আক্রমণ চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রাজধানীর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ছিল।
আইডিএফের দাবি, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। কুদস ফোর্স মূলত ইরানের বাইরে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আইআরজিসির একটি বিশেষ ইউনিট।
ইসরায়েলের অভিযোগ, মেহরাবাদ বিমানবন্দর ব্যবহার করে কুদস ফোর্স মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করত। এর মধ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ওপর চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটির সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীর ৪২টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে ইরানের বিমান শক্তি ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বড় একটি অংশ অচল করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তার দাবি, হামলার আগে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হেনেছে।



