ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চুক্তির ক্ষেত্রে চারটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছেন।
রোববার এআইপিএসিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করলেই যথেষ্ট নয়। তার মতে—ইরানের সম্পূর্ণ পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন ইসরায়েলি হামলায় সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। CBS News জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক বৈঠকে নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর হামলায় তিনি সমর্থন দেবেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় ইসরায়েল হামলা চালাবে কি না, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা দিতে পারে—সেই বিষয়টিকে। সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং নির্ধারিত ফ্লাইট রুটে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি।
তবে ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তিনি ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন। সেখানে আইএইএসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।



