ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব অভিযোগ করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য আবেদন করলেও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। বিষয়টিকে তিনি ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফিফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানদের প্রতি বিশ্বকাপের সময় স্বাগতিক দেশে খেলা উপভোগের আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজৌবও ফিফার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। যদিও ফিলিস্তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি, তবুও ফিফার আমন্ত্রণের আওতায় তার সফরের সুযোগ ছিল।
এরই মধ্যে অন্য দুই স্বাগতিক দেশের একটি, মেক্সিকো সফর করেছেন রাজৌব। সেখানে তিনি স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার একটি ম্যাচও মাঠে বসে উপভোগ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা বাতিল হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
গত বছর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। তবে সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেন, স্বাগতিক দেশের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ফিফার কার্যত কিছু করার সুযোগ নেই।
এদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেস-এও আলোচনায় ছিলেন রাজৌব। সেখানে তিনি বাসিম শেখ সুলাইমানের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাজৌব বলেন, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে তার মতে, ইসরাইলের বিষয়ে ফিফার আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি সংস্থাটির ‘দ্বিমুখী নীতি’ বন্ধের আহ্বান জানান। রাজৌবের ভাষ্য, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে কথা বলা কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দন করা বা ছবি তোলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।



