যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসায় দক্ষ বিদেশি কর্মী হিসেবে যেতে এখন থেকে গুনতে হবে এক লাখ ডলার। শুক্রবার এই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই নিয়মে আগের তুলনায় প্রায় ৬৭ গুণ বেশি খরচ করতে হবে আবেদনকারীদের।
আগে এই ভিসার জন্য সর্বোচ্চ খরচ হতো প্রায় ১,৫০০ ডলার। এখন সেটি বাড়িয়ে এক লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি টাকা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অর্থ পরিশোধ না করলে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এইচ-ওয়ানবি ভিসার অপব্যবহার রোধ ও স্থানীয় মার্কিন কর্মীদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। যদিও প্রযুক্তি খাতের অনেক কোম্পানি ও বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
বিভিন্ন সময়ে এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে বিতর্ক চলেছে। সমালোচকরা বলেন, বিদেশি কর্মীরা এলে স্থানীয় মার্কিনদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে। আবার ইলন মাস্কসহ পক্ষে থাকা উদ্যোক্তাদের মতে, এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা মেধাবীদের আকর্ষণ করার সুযোগ দেয়।
গোল্ড কার্ড প্রোগ্রাম চালু
একইদিন, ট্রাম্প আরেকটি নির্বাহী আদেশে ‘গোল্ড কার্ড’ নামে একটি নতুন অভিবাসন প্রোগ্রাম চালু করেছেন। এই প্রোগ্রামে, নির্দিষ্ট খাতের অভিবাসীরা যদি অন্তত এক মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করেন, তাহলে দ্রুত ভিসা সুবিধা পাবেন।
এই ঘোষণা দেওয়ার সময় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তিনি বলেন, “এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য বছরে এক লাখ ডলার দিতে হবে। বড় কোম্পানিগুলো এতে সম্মত।”
লুটনিক আরও বলেন, “বিদেশ থেকে লোক আনা বন্ধ করো, আমেরিকানদের প্রশিক্ষণ দাও। আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাও।”
প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ
এইচ-ওয়ানবি ভিসা সাধারণত প্রযুক্তি ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন খাতের জন্য ব্যবহার হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে এই ভিসার সবচেয়ে বড় গ্রাহক ছিল অ্যামাজন। এরপর রয়েছে টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগল।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য আবেদন সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বলেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক স্টার্ট-আপ ও ছোট কোম্পানির জন্য বড় ধাক্কা। তিনি বলেন, “অনেক কোম্পানিই উপযুক্ত কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না। বিদেশি প্রতিভাদের নিয়ে আসাই তাদের একমাত্র উপায়।”
বিশেষজ্ঞ জর্জ লোপেজের মতে, নতুন এই ফি প্রযুক্তি ও অন্যান্য শিল্পখাতে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনে স্থবিরতা আনবে।
অতীতের প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প এর আগেও ২০১৭ সালে এইচ-ওয়ানবি ভিসার অপব্যবহার রোধে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ শতাংশে, যেখানে ওবামা আমলে ছিল ৫-৮ শতাংশ এবং বাইডেন আমলে ২-৪ শতাংশ।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের মতো দেশগুলোতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি এইচ-ওয়ানবি আবেদন জমা পড়ে।
সংক্ষিপ্তভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত এইচ-ওয়ানবি ভিসার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিভা আকর্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



