tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে প্রস্তাবটি ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

যদিও আইসিজের এই মতামত আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন জলবায়ু মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের আদালতও রায়ে বিষয়টি উল্লেখ করতে শুরু করেছে।

তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ বিতর্ক তৈরি করেছে। বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু সম্মেলনেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা যায়। সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত, কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।

ভোটের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক্সে দেওয়া পোস্টে প্রস্তাবটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার দায় স্বীকার করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতিও গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস দাবি করেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে “অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি” রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ওয়াশিংটন দেখছে না।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি ঠেকাতে ভানুয়াতুর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বাস্তবতা। খরা, ফসলহানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইতোমধ্যে বহু দ্বীপ ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোই এই সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে কম দায়ী।

ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং জলবায়ু সংকটও এর বাইরে নয়।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। তুভালুর গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র দুই মিটার। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বড় অংশ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যতে জনগণকে স্থানান্তরের খরচ জোগাতে নাউরু সরকার অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের পাসপোর্ট বিক্রি করছে।

নাউরুর পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ থাকায় ধনী ব্যক্তিরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দেশটির নাগরিকত্ব নিচ্ছেন। সেই অর্থ জমা হচ্ছে ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। “ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ” স্লোগানটিও সেখান থেকেই এসেছে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিতেও পৃথিবীর তাপমাত্রা সেই সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকিতে রয়েছে।