২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিপরীতে, শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান। জেলাভিত্তিক ফলাফলে বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে যশোর জেলা। আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নড়াইল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বোর্ডের ফল অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যশোর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খুলনায় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অন্য জেলাগুলোর মধ্যে ঝিনাইদহে পাসের হার ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং নড়াইলে ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
গত বছর পাসের হারের তালিকায় নড়াইল ছিল সপ্তম অবস্থানে। এবার ১০ জেলার মধ্যে সবার নিচে নেমে গেছে জেলাটি। বাগেরহাটেও ফলাফলের অবনতি হয়েছে। গত বছর সেখানে পাসের হার ছিল ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশে।
১৬ প্রতিষ্ঠানে সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য
এবার যশোর বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজে। সেখান থেকে ৪৯ জন পরীক্ষা দিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নড়াইলের লোহাগড়ার মাকরাইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউটের ৪৩ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৭ জন, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজের ১৯ জন, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজের ১৫ জন এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনার ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজ, যেখান থেকে ১১ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লী কলেজের ৭ জন এবং কুষ্টিয়ার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজের ৮ জন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ ছাড়া খুলনার মডেল মহিলা কলেজের ৩ জন, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজের ৩ জন, মাগুরার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন, খুলনার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের ৩ জন, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজের ১ জন, মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজের ১ জন এবং খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লসের ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করতে পারেনি।
শতভাগ পাস করেছে তিন কলেজ
বোর্ডের অধীন মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ জন শিক্ষার্থীও সবাই পাস করেছে।



