tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশদুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৫০ পেল কলি

দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৫০ পেল কলি

জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল নেই। ফলে হাতে কলম ধরে লেখার সুযোগও হয়নি কখনো। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার কলি রানী। ডান পা দিয়ে লিখে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। এবার তার লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়া।

কলি রানীর বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামে। প্রয়াত মনোরঞ্জন রায়ের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারায় কলি। এরপর মা রূপালী রানীর স্নেহ, সাহস ও সহযোগিতায় এগিয়ে চলেছে তার জীবন। সে কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী।

কলির মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই মেয়ের দুই হাতের আঙুল নেই। তবে এ প্রতিবন্ধকতা তার পড়াশোনার আগ্রহে কখনো ভাটা ফেলতে পারেনি। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় নিজের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত এসেছে কলি।

শুধু পড়াশোনাই নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারেও দক্ষতা রয়েছে তার। ডান পা দিয়েই সহজে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার চালাতে পারে সে। গান গাওয়ার প্রতিও রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে পুরস্কার ও প্রশংসাও পেয়েছে কলি।

কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, বোর্ডের বিধি অনুযায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা থাকে। তবে কলি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়ম অনুসারে তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। সব পরীক্ষা স্বাচ্ছন্দ্যে শেষ করে সে উত্তীর্ণ হয়েছে।

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, দুই হাতে আঙুল না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে লিখে কলি জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত।

এর আগেও পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল কলি। এবার একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাতেও সফলতা পেল সে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে কলি জানায়, উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে চায় সে। দেশ ও মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না, নিজের জীবন দিয়ে সেটিই প্রমাণ করতে চায় কলি।

উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবার আশীর্বাদ এবং সহযোগিতা কামনা করেছে কলি ও তার পরিবার।