tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমোদি থেকে কেভিন রাড: এপস্টেইন নথিতে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

মোদি থেকে কেভিন রাড: এপস্টেইন নথিতে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্তের সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে একসঙ্গে ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় এসব নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হয়। যদিও নথিতে নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী—এমন কোনো দাবি করা হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আনা হয়নি, তবুও প্রকাশিত তথ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও এপস্টেইন সে সময় ফেডারেল পর্যায়ে কঠোর অভিযোগ এড়াতে সক্ষম হন। পরে ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার শুরুর আগেই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানায়।

নতুন প্রকাশিত নথিতে ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানির সঙ্গে এপস্টেইনের একাধিক যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। এসব বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সফর, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইমেইল ও বার্তালাপে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মোদির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সফরের আগে ও পরে এসব যোগাযোগে এপস্টেইন যুক্ত ছিলেন। ওই বছরই ইসরাইল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কেনে ভারত, যা দেশটির ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। তবে ভারত সরকার এসব ইমেইলকে ‘একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন মন্তব্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে বিরোধী কংগ্রেস পার্টি প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

এপস্টেইন নথিতে ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান বিজেপি নেতা হারদীপ সিং পুরির নামও উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, তিনি একাধিকবার এপস্টেইনের নিউইয়র্কের বাসভবনে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা হয়েছিল। যদিও পুরি দাবি করেছেন, তার সঙ্গে এপস্টেইনের সব যোগাযোগই ছিল সম্পূর্ণ পেশাগত।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেভিন রাডের নামও এপস্টেইনের বৈঠকের তালিকায় পাওয়া গেছে। তবে রাড এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতা বা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যে সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য নতুন করে প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় দেশটির রাজপরিবারও অস্বস্তিতে পড়েছে।

এ ছাড়া স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাইচাক এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর পদত্যাগ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন–সংক্রান্ত এই নথি প্রকাশ কেবল ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির বিষয় নয়; বরং এটি ক্ষমতা, প্রভাব ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অস্বচ্ছ সম্পর্কগুলোকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। আইনগতভাবে অনেক বিষয় এখনো প্রমাণিত না হলেও, এসব তথ্য বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তুলেছে।