tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদরাজনীতিমুক্তিযুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি: মির্জা ফখরুল

মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি থাকাকালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় যখন মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তখন সেনা সদস্যরা পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি তাঁদের বলেছিলেন, “অস্ত্র সমর্পণ করবেন না।” এরপর তিনি দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় যান, যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।

মন্ত্রী বলেন, “এই তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ওসমানীকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। ইতিহাস এই অবহেলাকে স্বীকার করে না। জনগণের সামনে এ ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কষ্ট হয় যখন কিছু রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার চেষ্টা করেন। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়, তাদেরকে বলছি—মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, গর্ব, ঐতিহ্য এবং অস্তিত্ব।”

জুলাই সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। দেশে বহু আন্দোলন হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা আমাদের গৌরবের ইতিহাস। এ কারণে আমরা জুলাইযুদ্ধকে গুরুত্ব দিই।”

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, বলছে বিএনপি জুলাইযুদ্ধ স্বীকার করে না—এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্কার আমরা শুরু করেছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সর্বশেষ তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কারের সব বিষয় তুলে ধরেছেন। আমরা সংস্কার চাই এবং বাস্তবায়ন করব।”

এ সমাবেশে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক সভাপতিত্ব করেন, সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খান।