tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়মিথ্যা মামলার দায়ে বিপাকে বাদীরা

মিথ্যা মামলার দায়ে বিপাকে বাদীরা

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ও আদালতে যে মামলা হয়েছে, তার অনেকগুলোই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মামলায় ব্যক্তিগত আক্রোশ, চাঁদাবাজি এবং নানা অসৎ উদ্দেশ্যে নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদেরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি দেশ-বিদেশে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিথ্যা মামলার বাদীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ৬৭ জন বাদীকে শনাক্ত করেছে। এসব বাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মিথ্যা মামলার প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুসারে এখন পর্যন্ত ১৩৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২৩৬ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রকৃত আসামিদেরও চিহ্নিত করছি। যদি কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ মামলাবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইজিপি আরও বলেন, “সবখানেই ভালো-মন্দ মানুষ রয়েছে। কেউ ফেরেশতা নয়। পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলেও আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। সাধারণ মানুষ যখন মামলায় হয়রানির শিকার হয়, তখন পুলিশও যদি জড়িয়ে পড়ে, মানুষ যাবে কোথায়?”

সারাদেশে ১,৭৬০টি মামলা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে মোট ১,৭৬০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬৬টি হত্যা মামলা এবং ৯৭৪টি অন্যান্য ধারায় রুজু করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৫৫টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ১৮টি হত্যা মামলায় ১,৯৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।

এছাড়া ৩৭টি মামলায় মোট ২,১৮৫ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত ১৮টি হত্যা মামলার মধ্যে কিছু ঢাকা, চট্টগ্রাম, শেরপুর, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী, পাবনা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় হয়েছে। অন্যান্য মামলাগুলো বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নরসিংদী ও বরগুনা জেলায় হয়েছে।

এসব মামলার তদন্তে শুধু এসআই বা ইন্সপেক্টর নন, সিনিয়র কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন এবং অনেকেই এসব মামলা পর্যবেক্ষণ করছেন।