tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশমা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ইমনের জবানবন্দি

মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ইমনের জবানবন্দি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমন মিয়া (২৯)। সোমবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ইমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমন বলেন, ‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।’

পরে আদালতের নির্দেশে রাতেই ইমনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ব্যথায় ভুগছিলেন ইমন। সোমবার সকালে ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পিয়ারা বেগম তাকে বাধা দিলে ইমন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে মায়ের কাছ থেকে দা নিয়ে তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এরপর নিজের বড় ভাই সুজন মিয়ার আট মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহানকেও আছড়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত পিয়ারা বেগমের বয়স ৬৫ বছর। তিনি ইমনের মা এবং মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী। অপর নিহত শিশু ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।

ঘটনার সময় সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ইমন তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হন। এ সময় শিশুটির মাথায়ও আঘাত লাগে এবং সে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে। পরে শিশুটিকে তুলে নিয়ে ইমন আছড়ে হত্যা করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে আঘাত লাগে। দুই থেকে তিন বছর আগে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি কমেনি। সম্প্রতি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তার পায়ে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। তবে এরপরও পায়ের ব্যথা অব্যাহত ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে পায়ের ব্যথায় অস্থির হয়ে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার মা পিয়ারা বেগম তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইমন মায়ের কাছে দা দিয়ে তাকে হত্যা করতে বলেন। মা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, তুই সুস্থ হয়ে যাবি।’ এরপরই ইমন মায়ের হাত থেকে দা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আঘাত করেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ইমন মিয়াকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ইমন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।