tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমামদানির বাসভবনে ট্রাম্প রুদ্ধদ্বার বৈঠক

মামদানির বাসভবনে ট্রাম্প রুদ্ধদ্বার বৈঠক

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবারের এ বৈঠকে নিউইয়র্কের আবাসন, অভিবাসনসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে গ্রেসি ম্যানশনের লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প ও মামদানি। এ সময় দুই নেতার কথাবার্তা ও পারস্পরিক আচরণে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রতিফলন দেখা যায়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের পর তাঁদের শরীরী ভাষাতেও সৌহার্দ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানি ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং নিউইয়র্ক মেয়রের চিফ অব স্টাফ এল বিসগার্ড-চার্চ উপস্থিত ছিলেন।

মামদানি বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে মামদানির বাহুতে দুবার সস্নেহে হাত রাখতে দেখা যায়। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দুই নেতার এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে প্রায় ৪৫ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর হলো। এর আগে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে নিউইয়র্কের মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ট্রাম্পের এ সফরকে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে ট্রাম্পের গ্রেসি ম্যানশনে যাওয়া মেয়র মামদানির সঙ্গে সম্পর্ক ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতার গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের দারুণ মেয়র হবেন। তাঁর মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আমি অবশ্যই সেটি আশা করি। আমি নিউইয়র্কের ভালোটাই চাই। আমি দেশের ভালোটাই চাই। আমি চাই তিনি একজন দারুণ মেয়র হোন।’

অন্যদিকে মামদানি জানান, তাঁদের মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সাশ্রয়ী আবাসন ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে যেসব বিষয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

কেন তিনি ট্রাম্পকে গ্রেসি ম্যানশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য ‘কিছু করতে পারেন’ এমন যে কারও সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত।

মামদানি জানান, কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে শত শত নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে তাঁর ও ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

অভিবাসন ইস্যুতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মামদানি। তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায় এবং অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়—সে বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে তাঁর দৃঢ় মতামত তুলে ধরেছেন।

বিশেষ করে হাইতিয়ান অভিবাসীদের প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে বলে জানান মামদানি। তাঁর ভাষ্য, অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীরা শুধু শহরের সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নন, তাঁরা নিউইয়র্কের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও ট্রাম্প ও মামদানির এ বৈঠক নিউইয়র্কের নগর প্রশাসন ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনেছে। বৈঠকের পর দুই নেতার প্রকাশ্য সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আলাদা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান