রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রমজান কাদিরভ আবারও চেচনিয়ার প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়ে পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার এই প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বে থাকছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, কাদিরভ পেয়েছেন প্রায় ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট। তার এই বিপুল ভোটের ব্যবধান নিয়ে অবশ্য রাশিয়ার নির্বাচনব্যবস্থা ও চেচনিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়াজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ঘরানার প্রার্থীদেরই বড় ধরনের সাফল্য দেখা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ায় বিরোধী রাজনীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে পশ্চিমা দেশ ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা সমালোচনা করে আসছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে থাকে।
চেচনিয়ায় কাদিরভের দীর্ঘদিনের শাসনের পেছনে পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। নব্বইয়ের দশকে চেচনিয়ায় যুদ্ধ ও সংঘাতের পর মস্কোর সঙ্গে কাদিরভ পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। কাদিরভের বাবা আহমেদ কাদিরভ প্রথমে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানে থাকলেও পরে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন এবং চেচনিয়ার নেতৃত্বে আসেন।
২০০৪ সালে এক বোমা হামলায় আহমেদ কাদিরভ নিহত হওয়ার পর তার ছেলে রমজান কাদিরভ ধীরে ধীরে চেচনিয়ার রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ২০০৭ সালে তিনি চেচনিয়ার প্রধানের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে টানা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
পুতিনের প্রতি কাদিরভের আনুগত্যও প্রকাশ্য। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর চেচেন যোদ্ধাদের একটি অংশকে রুশ বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে পাঠানো হয়। কাদিরভ বিভিন্ন সময়ে পুতিনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে কাদিরভের শাসনামল নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগও রয়েছে। তাদের দাবি, চেচনিয়ায় সাংবাদিক, বিরোধী মতের মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ জানিয়েছে।
এসব অভিযোগ অবশ্য কাদিরভ ও তার প্রশাসন অস্বীকার করে আসছে। তার দাবি, চেচনিয়ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় তার সরকারের ভূমিকা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চেচনিয়ায় কাদিরভের সর্বশেষ নির্বাচনী জয় তাই শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়; তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য, মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



