tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসারাদেশমা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রী খুন, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত

মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রী খুন, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী রয়েছেন। একই ঘটনায় পরিবারের আরও এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং শিফা আক্তার (৯)। গুরুতর আহত ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর বেগম দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার স্বামী কামাল হোসেনের মৃত্যু হয়। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে এক যুবক তাদের বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম ও তার ছোট মেয়ে শিফা নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় সায়মা ও ইকরাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সায়মাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইকরার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে এবং একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।