চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ছাত্রদের ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ জনই পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তিনটি বিভাগের মধ্যে মানবিক বিভাগেই ছাত্রদের পাসের হার সবচেয়ে কম। এ বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রীর মধ্যে প্রায় ৪৬ জন পাস করতে পারেনি।
মানবিক বিভাগে ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হারের ব্যবধান ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ এই বিভাগে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তিন বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি পাস করেছে। তবে ছেলে-মেয়েদের পাসের হারের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি মানবিক বিভাগে। একই সঙ্গে ছাত্রদের পাসের হারও এই বিভাগেই সবচেয়ে কম।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সামগ্রিক ফলেও পাসের হার কমেছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
সার্বিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এবারের ফলাফলে তিন বিভাগেই ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের তুলনামূলক কম পাসের হার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলের ব্যবধান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।



