চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৯ হাজার ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। ফলে এবার দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৬৬ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৩৫০ জন।
এদিকে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
গত বছরের তুলনায় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলেও অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৬৫ জন।
ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাতেও এবারের ফলাফলে পাসের হার কমার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মাদ্রাসা বোর্ডের ফলাফল সার্বিক ফলের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।



