গ্রামগুলো হচ্ছে—রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর। বর্তমান সরকার দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।
এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে গ্রামে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা থাকছে এই প্রকল্পে। এমন সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়ির গ্রামবাসী।
এসডিজি গ্রাম সম্পর্কে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি আদর্শ গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, যেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো স্থানীয় পর্যায়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের মানোন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা এবং সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের একটি স্থায়ী মডেল দাঁড় করানো হবে।’
তিনি আরো জানান, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস এবং মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, কুটিরশিল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি খাতের উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরি, গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা ও তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়াসহ আরো নানা সুবিধা প্রদান করা হবে।
এসবের মাধ্যমে একটি গ্রামের সব নাগরিক আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দক্ষ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুনাগরিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ‘এটি সমগ্র কাপ্তাইবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। ১০ আগস্ট কাপ্তাইয়ের জাতীয় জীবনে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসডিজি প্রকল্পের আওতায় মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা আনন্দিত।’
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, মিতিঙ্গাছড়ির স্থানীয় প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।



