দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যরাতে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, তার বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ যেভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তাতে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ দমনে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব সংসদে বিল উত্থাপন ও পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, চলমান বিতর্কের মধ্যে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) থেকে ৪৭ জন কর্মচারীকেও বরখাস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে। এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সরকারের এবং শাসক দলের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন; তাকে পদ থেকে সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।



