যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিতের পর বুধবার এ সতর্কবার্তা আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থানে এমন কয়েকটি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেগুলো আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
সোমবার ট্রাম্প জানান, তিনি নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।
পরদিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।”
এর আগে একাধিকবার ইরান সতর্ক করেছিল, নতুন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। তবে বুধবারের বক্তব্যে তারা ইঙ্গিত দেয়, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবার অঞ্চল ছাড়িয়েও বিস্তৃত হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে “প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ” এবার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এপ্রিলের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যে কখনও নতুন হামলার হুমকি, আবার কখনও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।
মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ “খুব দ্রুত” শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance-ও অগ্রগতির কথা জানান। হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও মে মাসের শুরু থেকেই সপ্তাহভিত্তিক দাম বাড়ছে। বুধবার সকালে এক মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের সামান্য নিচে নেমে আসে। তবে তা এখনও গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি।



