tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভেনেজুয়েলার নতুন নেত্রীকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ভেনেজুয়েলার নতুন নেত্রীকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার পর দেশটিতে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, রদ্রিগেজ ‘সঠিক কাজ’ না করলে তাকে “খুব বড় মূল্য দিতে হবে—সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।”

মার্কিন সাময়িকী দ্য অ্যাটলান্টিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো মাদক পাচার ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত থেকে একটি ‘নার্কো-সন্ত্রাসী শাসন’ পরিচালনা করছিলেন। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কারাকাসে বিমান হামলার পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হলেও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাবস্থায় নেই। তবে ডেমোক্রেট দলের কয়েকজন নেতা এই অভিযানকে কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রোববার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় ‘রেজিম-চেঞ্জ’ যাই বলা হোক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে তা ভালোই হবে। তার দাবি, পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই। শনিবার তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও সুবিবেচিত রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শাসন পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির অবকাঠামো মেরামতে কাজ করবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

তবে এসব ঘোষণার মধ্যেও মাদুরোর মিত্ররা এখনও ক্ষমতার ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে। কিউবা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেশটি দুদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।

রুবিও দাবি করেন, এই অভিযান যুদ্ধ নয়; বরং মাদক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয়, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়ছে। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর দেওয়া ‘কোয়ারেন্টাইন’ চাপ বজায় রাখার কৌশলের অংশ।

২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে বিরোধী দল দমন ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। বহু দেশ তার ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়কে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। শনিবার ভোরে কারাকাসে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অস্ত্র ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। মাদুরো পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী যুদ্ধের অজুহাতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ও ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জানান, অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী, সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। রুবিও বলেন, এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গোপন অভিযান হওয়ায় কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন ছিল না।

বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেনাবাহিনী তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার কারাকাসে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র রদ্রিগেজকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবে কি না—এ প্রশ্নে রুবিও বলেন, বিষয়টি ব্যক্তি নয়, পুরো শাসনব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে; যুক্তরাষ্ট্র এই শাসনকে অবৈধ মনে করে।

অভিযান নিয়ে ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস একে কেবল মাদকবিরোধী অভিযান নয়, বরং যুদ্ধের কর্মসূচি বলে আখ্যা দেন। সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে আরেকটি আইনভঙ্গ সমর্থনযোগ্য নয়; এ ধরনের রেজিম-চেঞ্জ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রক্ত ও অর্থ—দুই দিকেই ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে তারা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলা বিষয়ে ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারার প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।