tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভারত সীমান্তমুখী চীনের জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বাড়ছে সামরিক নজরদারি

ভারত সীমান্তমুখী চীনের জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বাড়ছে সামরিক নজরদারি

ভারতের উত্তর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ (J-20 Mighty Dragon) মোতায়েন জোরদার করেছে চীন। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে শিনজিয়াং ও তিব্বতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন সীমান্তে চীনের সামরিক সক্ষমতা আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজিং সংস্থা ভ্যান্টর-এর প্রকাশিত উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে শিনজিয়াংয়ের হোতান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের দামশুং বিমানঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

৯ জুলাই ধারণ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, হোতান বিমানঘাঁটির রানওয়েতে এক সারিতে সাতটি জে-২০ পার্ক করা রয়েছে। এই ঘাঁটি লাদাখের লেহ শহর থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতের কৌশলগত দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, তিব্বতের দামশুং বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে চারটি জে-২০ স্টিলথ ফাইটার দেখা গেছে। এটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবারই প্রথম ধরা পড়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ভারতের বেসরকারি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশীর মতে, হোতান ও দামশুংয়ে জে-২০-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন উচ্চভূমির ঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনা বিমানবাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

তার ভাষায়, এটি কেবল শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সাময়িক মোতায়েন নয়; বরং উত্তর সীমান্তে স্টিলথ সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বজায় রাখার কৌশলের অংশ। ফলে ভারতের জন্য কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার স্ট্যান্ডঅফ স্ট্রাইক সক্ষমতা দ্রুত আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

জে-২০-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

জে-২০ যুদ্ধবিমানের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টিলথ প্রযুক্তি। বিশেষ নকশা ও উন্নত রাডার-এড়ানোর সক্ষমতার কারণে এটি প্রচলিত রাডারে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে আকাশযুদ্ধে এটি শত্রুর নজর এড়িয়ে আক্রমণ পরিচালনা এবং আকাশে আধিপত্য বিস্তারে বাড়তি সুবিধা পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাফায়েল যুদ্ধবিমান অত্যাধুনিক হলেও তা স্টিলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। অন্যদিকে, ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) এখনও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে এগোলেও বিমানটি পূর্ণাঙ্গভাবে বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে আরও অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্রুত বাড়ছে চীনের জে-২০ বহর

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী দ্য ওয়ার জোন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চীনের হাতে আনুমানিক ৫০টি জে-২০ ছিল। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০-তে পৌঁছে।

পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১২০টিতে উন্নীত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনের বিভিন্ন বিমান ইউনিটে জে-২০-এর সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (RUSI)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের জে-২০ বহর প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপ-প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি মন্তব্য করেছিলেন, বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের শক্তিশালী শিল্পভিত্তি ও সুসংগঠিত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিফলন।

সীমান্তে জে-২০-এর উপস্থিতি নতুন নয়

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি গত এক দশক ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনের জে-২০ মোতায়েন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

২০১৬ সালে প্রথম তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে জে-২০ দেখা যায়। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও এই স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের তথ্য প্রকাশিত হয়।

ভারতের বর্তমান যুদ্ধবিমান বহর

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে। এগুলো হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭৫০ কোটি ডলারের চুক্তিতে আরও ২৬টি রাফায়েল কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফায়েল কেনার বিষয়ে ফরাসি নির্মাতা দ্যাসোঁ অ্যাভিয়েশন-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ভারতের বহরে বর্তমানে ২৬০টিরও বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি মিরাজ-২০০০মিগ-২৯-এর মতো যুদ্ধবিমানও এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, যদিও সেগুলোর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি