tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদজাতীয়ভারত-ইইউ এফটিএ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বাড়ছে ঝুঁকি

ভারত-ইইউ এফটিএ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বাড়ছে ঝুঁকি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত ২৭টি দেশ ভারতের প্রায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও পাদুকা, সামুদ্রিক পণ্য, রত্ন ও অলংকার এবং রাসায়নিক পণ্য উল্লেখযোগ্য।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর চাপও তৈরি হচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত—তৈরি পোশাকশিল্প। একই ধরনের পণ্যে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশ।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর গত ২৭ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে ভারত-ইইউ এফটিএর ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে চুক্তিটি আইনি পর্যালোচনা (লিগ্যাল স্ক্রাবিং) পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে ইউরোপের বাজারে ভারতের প্রতিযোগী সক্ষমতা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। বর্তমানে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাংলাদেশ পাচ্ছে, সেটিই ভারত পাবে। এমনকি বাংলাদেশ সাময়িকভাবে বাজার ধরে রাখতে পারলেও ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ ভারত তুলা, সুতা, কাপড় থেকে শুরু করে মেশিন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ; বিপরীতে বাংলাদেশকে সবই আমদানি করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তিন বছরের ট্রানজিশন সময় পাবে, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। কারণ ২০২৭ সাল থেকেই ভিয়েতনাম এফটিএর আওতায় ইউরোপে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ভারত ও ভিয়েতনাম—দুই দেশই শূন্য শুল্ক সুবিধা পেলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে ইউরোপে ‘ইভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর ইউরোপে এখন ৯ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা এফটিএ কার্যকর হলে শূন্যে নেমে আসবে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ইউরোপে রপ্তানি করেছে প্রায় এক হাজার ৮৩১ কোটি ইউরো, যেখানে ভারতের রপ্তানি ছিল ৪১৮ কোটি ইউরো। চলতি বছরেও এই ব্যবধান থাকলেও এফটিএ বাস্তবায়নের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই গেছে ইউরোপের বাজারে। ফলে এই বাজারে শুল্ক সুবিধা হারানো দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর যদি বাংলাদেশ এফটিএ বা জিএসপি প্লাসের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ২০২৯ সালের পর ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। বিপরীতে ভারত ও ভিয়েতনাম শূন্য শুল্ক সুবিধা ভোগ করবে, যা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষ জনবল ও সুসংগঠিত কৌশলের অভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত দক্ষ নেগোসিয়েটরদের নিয়ে শক্তিশালী টিম গঠন এবং প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা জরুরি।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। এই বাজারে যে কোনো হুমকি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত। ভারত-ইইউ এফটিএ রাতারাতি প্রভাব না ফেললেও, বাস্তবায়নের পর ভারতের সক্ষমতা বাড়বে এবং এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের শুল্ক সুবিধা প্রত্যাহার হলে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-ইইউ এফটিএ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য স্পষ্ট ‘বিপদ সংকেত’। এখনই কার্যকর ও কৌশলগত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের রপ্তানি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

pprothomnews24.com/moha