ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ৩টি প্রকল্প বিষয়ক জাতীয় সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন।
মন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ণের বর্তমান বাস্তবতায় পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, সমাপ্তির লক্ষ্যে থাকা তিনটি প্রকল্পে কৃষিজমি সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে উঠবে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অগ্রগতি আসবে এবং সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, জনবান্ধব ও আধুনিক শহর গঠনে স্থানিক পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতে এ ধরনের পরিকল্পনা থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে উপস্থাপিত তিনটি প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর তিনি জোর দেন।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক এম. মাহমুদ আলী স্বাগত বক্তব্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্প পরিচালকরা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেষ হওয়ার লক্ষ্যে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশীজনরা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, অভিজ্ঞতা ও ফলাফল নিয়ে মতামত দেন।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



