আজ ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট, শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী। একজন প্রভাবশালী নারী রাজনীতিক হিসেবে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তিন দফায় প্রধানমন্ত্রিত্ব, বহু রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে দীর্ঘদিন চালিয়ে নেওয়া—এসব কিছুই তাকে দেশের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য চরিত্রে পরিণত করেছে।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মাঝে পাকিস্তানের বেনজির ভূট্টোর পর দ্বিতীয় মহিলা সরকারপ্রধান। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তিনি ফার্স্ট লেডিও ছিলেন।
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম নাম খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। চার বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ভাইয়েরা সবার ছোট। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। বেগম খালেদা জিয়ার আদি পৈতৃকনিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। কিন্তু বেগম জিয়ার জন্ম-শৈশব-কৈশোর কেটেছে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে। খালেদা পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন এরপর তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তান এ বসবাসের পূর্বে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এ পড়াশোনা করেন।
তার স্বামী বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডি এফ আই এর কর্মকর্তা রূপে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। তার এক ভাই মেজর(অবঃ) সাঈদ এস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের আহ্বানে তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
২০০৯ সালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ওঠে। নানা মিথ্যা অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্য়াতন ও কারারুদ্ধ করে রাখে। কারাগারে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোন অভিযোগেরই উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর তিনি মুক্তি পান। যদিও কারাবাসের সময় খালেদা জিয়া দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ও যকৃতের রোগ, অস্থির হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস-এ আক্রান্ত হন এবং অন্যান্য বয়সজনিত জটিলতায় ভুগতে থাকেন।
আজ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮০ তম জন্মবার্ষিকী পালনে এবং তার সুস্থতা কামনা বিএনপি রাজথানী ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।



