tanaka

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও...
প্রচ্ছদটপ নিউজবিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন দায়িত্বশীল, দূরদর্শী ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন এক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যা সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ফলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা, সম্মান ও কূটনৈতিক অবস্থান ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানের সাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীনের দালিয়ানে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের আটজন সদস্য রয়েছেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসরণ করে তাকে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাহদী আমিন বলেন, সীমিত আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরছেন। মালয়েশিয়া সফরেও তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী, রাজা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় চীনে এসে তিনি বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বহুমাত্রিক আলোচনা শুরু করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। “Innovating at Scale” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং বৈশ্বিক করপোরেট নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এ সফরের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত”—এই বার্তাটি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, সম্মেলনের ফাঁকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জুইংগির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসাও করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে বিশেষ বক্তব্য দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হওয়ায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সবুজ শিল্পের সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।” তিনি ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৈশ্বিক সংহতি ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বস্ত্রীক অংশ নিচ্ছেন। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, গিনি, মন্টেনেগ্রো ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার মতবিনিময়ের সুযোগ হবে।

তিনি জানান, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশ নেবেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা দালিয়ান থেকে হাইস্পিড ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

মাহদী আমিনের মতে, সামার দাভোসে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।