tanaka

জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৫ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক

জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সিএনজি চালকদের পাঁচ ঘণ্টার অবরোধের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও গ্যাস...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে একটি সামরিক পরিবহন জাহাজে হামলার দাবি করেছে। বুধবার স্থানীয় সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইয়েমেনের মোচা এলাকা এবং মারিব প্রদেশের তাদাউইন শিবিরে সৌদি-সমর্থিত সেনাদের অবস্থান, অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করেছে হুথিরা।

গোষ্ঠীটির দাবি, এসব হামলায় সৌদি নাগরিকসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা চালানো এবং উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে—এমন সৌদি বাহিনীর অবস্থানগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের যারা তাদের ভাষায় ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সহযোগিতা করছে, তাদেরও সতর্ক করেছে হুথিরা।

এদিকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি বলেন, হুথিদের কোনো কর্মকাণ্ডের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের কোনো তৎপরতাই নজরদারির বাইরে থাকবে না।

তিনি বলেন, হুথিদের সামনে এখনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরার সুযোগ রয়েছে। অস্ত্র নামিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া এবং অন্য ইয়েমেনিদের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পরপর দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক দিন পর হুথিদের নতুন এই হামলার ঘোষণা এলো। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেন সরকার এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথিদের দায়ী করেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবহনকারী ছোট কার্গো জাহাজ ‘তিহামাহ’কে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে চার নাবিক নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন নাবিক ও উদ্ধারকর্মী আহত হন।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম হামলার পর জাহাজের যাত্রী ও নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হলে হুথিরা দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। মন্ত্রণালয় এটিকে জাহাজে থাকা মানুষ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পরে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানায়, নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মীও ছিলেন। জাহাজটির মালিকানা নিয়েও প্রথমে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ইয়েমেনের কর্মকর্তারা ও সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা মারিস্কস জানিয়েছিল, সৌদি মালিকানাধীন একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ‘তিহামাহ’ তানজানিয়ার পতাকা নিয়ে চলছিল। জাহাজটির মালিকানা মিসর ও ইয়েমেনে নিবন্ধিত কয়েকটি কোম্পানির।

এর আগে গত ৯ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের আল-মোখা বন্দরে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুথিরা। আল জাজিরা ইয়েমেন টুডে টিভি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাবা টিভির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

আল-মোখা বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। হামলার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই সমুদ্রবন্দরে বড় পরিসরে ও নির্ভুলভাবে অভিযান চালিয়েছে।

লোহিত সাগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।