tanaka

ওজন কমাতে আমলকী-বিটরুট-গাজরের জুস কতটা কার্যকর?

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমলকী, বিটরুট ও গাজরের মিশ্রণে তৈরি ‘এবিসি জুস’। দ্রুত ওজন কমানোর পানীয় হিসেবে সামাজিক...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের দাপট

বিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের দাপট

দেশে ওষুধের চাহিদা মেটাতে একসময় তাকিয়ে থাকতে হতো বিদেশের দিকে। সে চিত্র এখন বদলেছে। ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজার এখন প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারের। স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছেন দেশীয় উৎপাদকরা।

শুধু তাই নয়, বিদেশের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি ওষুধের দাপট। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ১৩২টি দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই উপস্থিতি এখন আর ছোট পরিসরের নয়। গত ১০ বছরে ওষুধ রপ্তানি ৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৩৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬৭ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২১৩ মিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাণিজ্যে নানা ওঠানামার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ওষুধশিল্পের ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরছে এই প্রবৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের বাজারেও বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শিল্পের মান ও সক্ষমতা প্রমাণ করে। ফলে স্থানীয় বাজারে সক্ষমতা অর্জনের পর বৈশ্বিক বাজারে আরও বড় অংশ দখলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সামনে।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা

গত এক দশকে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানিতে সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, ১০ বছরে রপ্তানি বেড়েছে ১৪৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৬৭ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বেড়ে হয় ৮৯ মিলিয়ন থেকে ১৮৯ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কিছুটা কমে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারে নামে। এরপর আবার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ফিরে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি ২০৫ মিলিয়ন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১৩ মিলিয়ন এবং সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিশেষ করে সবশেষ বছরে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক চিত্র বলছে, মাঝখানে সাময়িক পতন থাকলেও বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের রপ্তানি বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও দৃশ্যমান।

শীর্ষ ১০ রপ্তানি গন্তব্য

বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির শীর্ষ ১০ গন্তব্যের মধ্যে শ্রীলঙ্কা প্রথম, যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ৩০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে মিয়ানমার ৩০ মিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৯ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯ মিলিয়ন, কম্বোডিয়া ১২ মিলিয়ন, আফগানিস্তান ১২ মিলিয়ন, কেনিয়া ১১ মিলিয়ন, পাকিস্তান ১০ মিলিয়ন, চিলি ৯ মিলিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ৪ মিলিয়ন ডলার।

যে কারণে বাড়ছে রপ্তানি

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওষুধ রপ্তানিতে নীতিগতভাবে কোনো বাধা নেই। অতীতে মূল্যসংক্রান্ত কিছু জটিলতা ছিল, তবে সেগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আমরা আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছি। আমাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সার্বিকভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন নিশ্চিত করছি। এ কারণে বিদেশি বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা বাড়ছে, যা রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।’

বিনিয়োগ ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে স্কয়ার এগোচ্ছে জানিয়ে তপন চৌধুরী বলেন, ‘নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা চলছে।’