tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিবিজয় নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদল বিএনপির

বিজয় নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদল বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে একাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তন ও মনোনয়ন রদবদল করেছে বিএনপি। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর কয়েকটি আসনে বিক্ষোভ, অভ্যন্তরীণ জরিপ ও রাজনৈতিক সমীকরণ পর্যালোচনা করে ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১২টি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল এবং জোটের বাইরের একটি ইসলামী দলসহ মিত্রদের জন্য প্রায় ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। ‘বিজয় নিশ্চিতে’ কৌশলের অংশ হিসেবে কয়েকটি মিত্র দলের শীর্ষ নেতাকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ প্রতীকও দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু আসনে হয়েছে আসন সমঝোতা—যেখানে বিএনপি প্রার্থী দেবে না বা আগের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ আসনেই বিএনপির মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত।

তবে শেষ মুহূর্তেও নির্বাচনী সমঝোতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, যুগপতের বাইরে গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি অংশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে তাদের কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। আবার ওই দল থেকে কেউ বিএনপিতে যোগ দিয়েও ধানের শীষ পেতে পারেন। ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ঘনিয়ে আসায় আজ রোববার আরও ‘চমক’ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামীকাল সোমবার।

এদিকে ধানের শীষের মনোনয়ন না পেয়ে কিছু বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে সম্ভাব্য ‘বিদ্রোহ’ ঠেকাতে দলকে ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে।

মনোনয়ন রদবদল প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন,
“প্রাথমিক তালিকাই চূড়ান্ত নয়—এ কথা আমরা শুরুতেই বলেছিলাম। কোনো আসনে পরিবর্তন প্রয়োজন মনে হলে সেটি করা হবে। বড় দল হিসেবে প্রতিটি আসনেই আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৬ আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। এতে মোট ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও ২৮টি আসন ফাঁকা রাখা হয়, যেখানে মিত্র ও শরিকদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী জোটভুক্ত দলগুলোকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হওয়ায় কৌশল পরিবর্তন করে বিএনপি। এ কারণে নিবন্ধিত এনডিএম ও অনিবন্ধিত বাংলাদেশ জাতীয় দল ও এলডিপির শীর্ষ নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি দল নিজেদের বিলুপ্ত করেছে।

এ ছাড়া যুগপতের নিবন্ধিত চারটি দল এবং যুগপতের বাইরে নিবন্ধিত ইসলামী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। তবে এখনো এই প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে জেএসডি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি।

ঢাকা-১৭ আসন নিয়েও জল্পনা রয়েছে। বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন—এমন আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হয়েছেন। যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

চট্টগ্রাম, যশোর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। কোথাও শরিক দলকে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার প্রাথমিক প্রার্থী বাদ দিয়ে নতুন মুখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু আসনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিক্ষোভও দেখা গেছে।

অন্যদিকে, শরিক দলের প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া কয়েকটি আসনে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোনয়ন ও সমঝোতার রাজনীতি চলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যেসব দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছে, তারা নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। আর যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবেন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী মাঠে বিজয় নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হিসাব–নিকাশ ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি।