tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবাড়তি বন্দর মাশুলে ঝুঁকিতে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্প

বাড়তি বন্দর মাশুলে ঝুঁকিতে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্প

চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কায় পড়েছে দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য শিল্প। নতুন মাশুল কার্যকর হওয়ায় কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ট্যারিফ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়, যা সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ট্যারিফে বন্দরের ৫৬টি সেবার গড় মাশুল ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে কনটেইনার পরিবহনে বড় পরিমাণে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে—২০ ফুট একক (TEU) কনটেইনারপ্রতি ৩৭% পর্যন্ত বেড়ে এখন দিতে হচ্ছে গড়ে ১৬,২৪৩ টাকা, যা আগে ছিল ১১,৮৪৯ টাকা।

শিল্প মালিকদের উদ্বেগ

হিফস অ্যাগ্রো ফুডস ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান বলেন, মাশুল বৃদ্ধির ফলে একদিকে কাঁচামাল আমদানি এবং অন্যদিকে রপ্তানি—উভয় দিকেই ব্যয় বাড়বে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোমিন আলী বলেন, “একই মানের পণ্য যদি অন্য দেশ থেকে কম দামে পাওয়া যায়, তাহলে বায়াররা সেদিকেই ঝুঁকবে। এতে আমাদের অ্যাগ্রো প্রসেস খাত হুমকির মুখে পড়বে।”

নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, এখন দুই টনের বেশি পণ্য এলসিএল (LCL) নয়, এফসিএল (FCL) হিসেবে গণ্য হবে, ফলে আমদানি ব্যয় আরও বাড়বে। এছাড়া ২০ ফুট কনটেইনারের স্ট্যাফিং চার্জ ৭,২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯,৯০০ টাকা এবং ৪০ ফুটের জন্য ৯,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪,৯০০ টাকা। কার্গো ল্যান্ডিংয়েও টনপ্রতি ৬৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

খরচ বাড়লে কমবে প্রতিযোগিতা

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, “ফ্রেইট খরচ এমনিতেই বেশি, তার সঙ্গে হ্যান্ডলিং চার্জ বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এতে রপ্তানিতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। ভোক্তার ওপরও এর প্রভাব পড়বে।”

নীতিগত সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক বলেন, “খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প দেশের একটি উদীয়মান খাত। এটি কৃষির উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ট্যারিফ বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত এই খাতের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে গেলে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার ফলে রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজতে পারে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১০৬টি দেশে ২ লাখ ৩ হাজার টনের বেশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি করেছে, যার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা।