২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম এই বাজেট ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ৩০ জুন জাতীয় সংসদে এটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ চেম্বারে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি একটি সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী বাজেট।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বাজেট মূলত উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাসহায়ক। বিভিন্ন খাতে যে কর-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় উদ্যোগ।”
শিল্প, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনা ও নীতিগত ভাবনার আলোকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন।
পূর্ববর্তী সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। ফলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অগোছালো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েই নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পর দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায়। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।”
মির্জা ফখরুলের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের আন্তরিকতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বাজেটের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।



