আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজের সন্ধানে ইরানে বিজ্ঞানী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এসব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। এবার সেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সম্ভাব্য মজুত নিয়ে গবেষণায় সহযোগিতা করতে যাচ্ছে দেশটি।
রেয়ার আর্থ বলতে বিশেষ কিছু ধাতব মৌলকে বোঝায়, যেগুলো আধুনিক ইলেকট্রনিকস, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকায় এসব খনিজ ঘিরে দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানে রেয়ার আর্থের সম্ভাব্য মজুত থাকলেও সেগুলো শনাক্ত, উত্তোলন ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার উপযোগী করার ক্ষেত্রে দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত। ফলে চীনের কারিগরি সহায়তা পেলে ইরান নিজস্ব খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।
চীন-ইরান সহযোগিতায় নতুন মাত্রা
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে যখন প্রতিযোগিতা তীব্র, তখন ইরানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রেয়ার আর্থ নিয়ে চীনের এই উদ্যোগকে কৌশলগতভাবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর অন্যতম অগ্রাধিকার। চীনের সঙ্গে ইরানের এই সহযোগিতা সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
চীন ও ইরানের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ভিত্তি কয়েক বছর ধরেই রয়েছে। ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা কাঠামোর ধারাবাহিকতায় রেয়ার আর্থ নিয়ে সম্ভাব্য এই যৌথ উদ্যোগকে দুই দেশের প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে ইরানে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ রেয়ার আর্থের মজুত রয়েছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন কতটা সম্ভব—তা নির্ধারণে আরও অনুসন্ধান ও গবেষণার প্রয়োজন হবে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট



