দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোনা:
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ফেরিঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরার সময় আব্দুল মোতালিব নামে এক জেলে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
দুপুরে একই ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে মোনায়েম খা (৫৪) নিহত হন। এছাড়া কৃষ্ণপুর এলাকায় ধান কাটার সময় শুভ মণ্ডল নামে এক শ্রমিক বজ্রপাতে প্রাণ হারান। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
খালিয়াজুড়ি থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, তিনজনই ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বিকেলে বজ্রপাতে মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সংলগ্ন হাওরে গরু আনতে গিয়ে তিনি বজ্রপাতে নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া।
সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে তিনজন কৃষকের মৃত্যু এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার জমির উদ্দিন (৪৬) ও জমির হোসেন (৪০), এবং জামালগঞ্জ উপজেলার আবু ছালেক (২০)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ মিয়া, মুত্তালেব ও সুহেল মিয়া; তারা শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাওরে ধান কাটার সময় ও ঝড়ের মধ্যে বাইরে অবস্থানকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালী:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মো. আরাফাত (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চর ঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী গ্রামে বাদামক্ষেত দেখে ফেরার পথে তিনি বজ্রপাতে নিহত হন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এ সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।



