tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকবঙ্গোপসাগরেও মিলতে পারে সোনার মতো দামি ‘অ্যাম্বারগ্রিস’, কী এই জিনিস?

বঙ্গোপসাগরেও মিলতে পারে সোনার মতো দামি ‘অ্যাম্বারগ্রিস’, কী এই জিনিস?

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে একদল জেলের জীবন হঠাৎ করেই বদলে গেছে। তিমির পেটের ভেতরে পাওয়া দুর্লভ এক জিনিস বদলে দিয়েছে তাদের ভাগ্য।

অন্য দিনগুলোর মতো সেদিনও তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন এডেন উপসাগরে। এক পর্যায়ে সমুদ্রের পানিতে একটি মরা স্পার্ম তিমি (Sperm whale)) ভাসতে দেখেন। তখনো তারা ভাবতে পারেনি যে এর পেটের ভেতরে আছে মহামূল্যবান এক পদার্থ।

বঙ্গোপসাগরেও মিলতে পারে কোটি টাকার ‘অ্যাম্বারগ্রিস’, কী এই রহস্যময় বস্তু?

সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া এক অদ্ভুত মোমজাতীয় পদার্থের মূল্য শুনলে অনেকেই অবাক হন। এটি হলো অ্যাম্বারগ্রিস (Ambergris)—একটি বিরল প্রাকৃতিক পদার্থ, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ থেকে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্পার্ম তিমির দেহ থেকে উৎপন্ন এই বস্তু উদ্ধার হওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরেও তাত্ত্বিকভাবে অ্যাম্বারগ্রিস পাওয়া অসম্ভব নয়, কারণ এ অঞ্চলেও স্পার্ম তিমির বিচরণ রয়েছে।

অ্যাম্বারগ্রিস কী?

অ্যাম্বারগ্রিস মূলত স্পার্ম হোয়েলের (Sperm Whale) পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ মোমজাতীয় পদার্থ। বিজ্ঞানীদের মতে, তিমি যখন স্কুইডসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী খায়, তখন তাদের শক্ত ঠোঁট, হাড় বা অন্যান্য ধারালো অংশ থেকে পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে দেহে বিশেষ ধরনের রস নিঃসৃত হয়। সময়ের সঙ্গে সেই রস জমাট বেঁধে অ্যাম্বারগ্রিসে পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদার্থ তিমির পরিপাকতন্ত্রকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কীভাবে এটি বের হয়?

সাধারণত অ্যাম্বারগ্রিস ছোট ছোট অংশে তৈরি হয়ে তিমির মলের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি বড় আকার ধারণ করলে স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না। তখন ধারণা করা হয়, স্পার্ম তিমি মুখ দিয়ে এটি বের করে দেয়। এ কারণেই অনেক সময় অ্যাম্বারগ্রিসকে ভুলভাবে ‘হোয়েলের বমি’ বলা হয়।

বাস্তবে এটি একটি কঠিন, মোমের মতো পদার্থ, যা তিমির মুখ বা পায়ুপথ দিয়ে নির্গত হয়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকতে পারে। সূর্যের আলো, লবণাক্ত পানি ও বাতাসের সংস্পর্শে এসে এর গন্ধ ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে। বিরলতা এবং সুগন্ধি শিল্পে বিশেষ ব্যবহারের কারণে অ্যাম্বারগ্রিস আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হয়।